বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য অনতিবিলম্বে বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ২৩ বিশিষ্ট নাগরিক। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন আশংকাজনক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগে ভূগছেন এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থার ক্রমেই আরো অনেক অবনতি হয়েছে।
সরকারের কাছে বেগম জিয়ার পরিবার সুচিকিৎসার জন্য তাকে অবিলম্বে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা সরকারকে এই অনুরোধ সহৃদয়তার সাথে বিবেচনা করে বেগম জিয়াকে অনতিবিলম্বে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। সরকার এধরনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখালে তা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। বিবৃতিদাতারা হলেন-
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
অধ্যাপক আহমেদ কামাল
অধ্যাপক স্বপন আদনান
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম
অধ্যাপক পারভীন হাসান
অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল
অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা
মানবাধিকার কর্মী শিরিন হক
নূর খান লিটন
রেহনুমা আহমেদ
হানা শামস আহমেদ
নারী নেত্রী ফরিদা আখতার
ডা. নায়লা জেড খান
ড. নাসরিন খন্দকার
মির্জা তাসলিমা সুলতানা
অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস
অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম
এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী
এডভোকেট হাসনাত কাইযুম
গবেষক রোজিনা বেগম
সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী
সাংবাদিক সায়েদা গুলরুখ
সমাজকর্মী নাসের বখতিয়ার।
সূত্র
ঢাকা: দেশের ‘সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে’ নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। দিনাজপুরের এক নারী রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।
রোববার (১০ জানুয়ারি) রায়ের বিষয়টি সারাবাংলা নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে সাইফুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে নির্দেশনা দিয়ে গতকাল ( ৯ জানুয়ারি) এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ।’
রিটের পক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশন থাকেন। মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিয়ের অনুষ্ঠান হয় মসজিদে। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারে না এবং তারা নামাজও পড়তে পারে না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে সাইফুজ্জামান বলেন, ‘আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, একজন নারী একজন মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হতে হলে কিছু কিছু কার্যক্রম করতে হয়। নারী হিসেবে সব জায়গায় যেতে পারবেন কি না। রাত-বিরাতে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে যেতে পারবেন না। আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে নারীদের প্রত্যেক মাসে একটি বিশেষ সময় আসে যে সময়টাতে ধর্মীয়ভাবেই নারীরা মসজিদেও যেতে পারেন না। আবার নামাজও পড়তে পারেন না। এরকম সময় যদি কারও বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে তো কোনো নারী যেতে পারবে না। অন্যান্য পাবলিক অফিসে নারীরা যে কাজ করেন, আর ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে কার্যক্রম আলাদা।’ বিয়ে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।
এর আগে, গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট।
দিনাজপুরের এক নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকার রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির জানান, ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিনজন মহিলার নাম প্রস্তাব করেন উপদেষ্টা কমিটি। তিন সদস্যর এই প্যানেল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
২০১৪ সালের ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে চিঠি দিয়ে তিন সদস্যর প্যানেল বাতিল করেন। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্যানেলে এক নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা।
রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন বাতিল করা হবে না’ এই মর্মে রুল জারি করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।
সূত্র - সারাবাংলা
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। তাহলে সেখানে সংখ্যালঘুরাও শিক্ষা নিতে পারবে। তাদের ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে না শিক্ষা নিতে। এতে মুসলমানদের ভালো হবে। তারা (সংখ্যালঘুরা) ইসলামের ভালো সাইট দেখতে পারবে। তাদের ইসলামফোবিয়াটা কমে যাবে।’
আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক আলোচনায় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪০তম জন্মদিন উপলক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র, শ্রমিক ও যুব অধিকার পরিষদ, রাষ্ট্রচিন্তা ও গণসংহতি আন্দোলন এ সভার আয়োজন করে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্বৈরাচার যেখানে বাসা বাঁধে সেখানে দেশপ্রেম ভুলিয়ে দেওয়া হয়। আজ স্বাধীনতার কথা বলবে, সেখানে মওলানা ভাসানীকে স্মরণ করবে না, তার নাম উচ্চারণ করবে না, তা তো হতে পারে না। স্বৈরাচারী সরকারের নিয়ম হচ্ছে যারা দেশের জন্য কিছু করেছে, তাদের নাম মুছে ফেলা। এটা হতে পারে?’
দেশের চলমান ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘হঠাৎ করে হুজুররা এত শক্তি পেলো কোথায়? সাহস পেলো কোথায়? তাদের কে মাঠে নামালো? এটারও ইতিহাস আছে। মার্কিন নির্বাচনে যখন জো বাইডেন নির্বাচিত হলো তখন অন্যদের মতো বাংলাদেশ সরকারও অভিনন্দন জানিয়েছে। সেখানে সবার উত্তর এসেছে, কিন্তু শেখ হাসিনার উত্তর আসেনি। কারণ জো বাইডেন জানেন রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হুজুরদের মাঠে নামানো হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ টুপি মাথায় ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থানে মাঠে নামলো। যাতে তারা (জো বাইডেন) জঙ্গিবাদ মৌলবাদের উত্থান দেখে ভয় পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমাদের কঠিন দায়িত্ব। আলেমরা জ্ঞানীগুণী মানুষ। কিন্তু অনেক সময় তারা একচোখা হয়। আন্দোলন করছেন মূর্তি আর ভাস্কর্য নিয়ে। এটা কোরআনের কোনও জায়গায় লেখা নেই। মূর্তি পূজা করতে নিষেধ আছে, কিন্তু মূর্তি ভাঙতে বলে নাই।’ ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন থেকে সরে এসে হুজুরদের জনগণের অধিকারের আন্দোলন, ন্যায়-নীতির আন্দোলনে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র - বাংলা ট্রিবিউন
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত থাকা ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিবৃতিটি জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম বলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী গত ১ ডিসেম্বর থেকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।’
বিবৃতিতে কাসেমীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম।
সূত্র - বাংলা ট্রিবিউন
ভাস্কর্য নিয়ে চলমান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে আছি, আমাদের সব ব্যাপারে মাথা গরম করলে চলবে না। বিষয়টা হ্যান্ডেল করছেন প্রধানমন্ত্রী। সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল অনেক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তিনি এখানে এসেছেন। তিনি জানেন, কোন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়।’
আজ শনিবার সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর দোয়েল চত্বরে অবস্থিত জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি কারও সঙ্গে কোনো সংঘাতে যাব না। আমরা শুধু যুক্তিতর্ক দিয়ে বলব, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা কি জানে না, সৌদি আরবসহ বিশ্বের সব মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। সেখানে ভাস্কর্য যদি ইসলামবিরোধী না হয়, বাংলাদেশে কেন হবে!’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গণতন্ত্র আজকের অবস্থায় এসেছে। গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হলেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনো পায়নি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আজকের অঙ্গীকার। গণতন্ত্র দেশে আছে, এটি একটি বিকাশমান ধারা। গণতন্ত্র রাতারাতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি মহল মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের আচরণে কখনো মনে হয়নি তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আছে, এরা গণতন্ত্রের শত্রু। গণতন্ত্রের শত্রুরা গণতন্ত্রের বিকাশ চায় না। গণতন্ত্র বিকাশমান প্রক্রিয়া, এটির ভুলত্রুটি আছে। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে, এটি আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ করে না। যাদের নিজেদের ঘরে গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পরাজিত বা বিজয়ী কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি না। এ বার্তা সবার কাছে যাবে, বিদ্রোহ করলে শাস্তি আছে।’
সূত্র
প্রশ্ন: সালাম বাদ, মুহতারাম মুফতী সাহেব হুজুর! বর্তমান করোনা মহামারী কালীন সময়ে অনেক লোককে দেখা যায়, নামায পড়ার সময়ও মুখে মাস্ক (Mask) পরে থাকেন। শরীয়তের আলোকে এতে কোন রকম বিধি-নিষেধ আছে কি- দলিল-প্রমাণ দিয়ে জানালে খুশি হবো।
উত্তরঃ নামায পড়ার সময় নাক, মুখ ঢেকে রাখতে শরীয়তে নিষেধ এসেছে। অতএব, বাস্তবসম্মত শরয়ী ওজর ছাড়া মাস্ক (Mask) পরে নামায আদায় করা মাকরুহে তাহরিমী তথা জায়েয নয়।
মুমিনের আল্লাহর উপর ভরসা রাখা চাই। যথা সম্ভব আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)এর দেয়া বিধানকে অক্ষুণ্ন রেখে চলার মাঝেই আমাদের কল্যাণ ও বরকত। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ ও সহীহ আমলের তাওফীক দান করুন।
(সূত্র- সুনানে আবি দাউদ ,খণ্ড -১, পৃষ্ঠা -৯৪, ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদিস নং- ৯৬৬, ফাতাওয়ায়ে শামী, খণ্ড- ১, পৃষ্ঠা- ৬৫২, হাশিয়াতুত ত্বাহত্বাবী আলাল মারাক্বী ,পৃষ্ঠা- ১৯৩, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরিয়্যা ,খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১০৭)।
ফতোয়া দিয়েছেন- মুফতী মুহিউদ্দীন মাছূম
প্রধান মুফতী- জামিয়া সুবহানিয়া মাহমূদনগর, তুরাগ, ঢাকা ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলি, কাজ করি, আমরা যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাদের কাছে মওলানা ভাসানীকে সত্যিকার অর্থে একজন দেবতার মতো মনে হয়। তিনিই আমাদের দেখিয়েছেন যে, মানুষের কী জন্যে মুক্তি দরকার, স্বাধীনতার দরকার, সার্বভৌমত্ব দরকার। সেই বৃটিশ দাস থেকে শুরু যে লড়াই করছেন, সংগ্রাম করছেন এই মানুষের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য।’
বুধবার মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ভাসানী রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানী সমাজকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন, তিনি একেবারে শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। সে জন্য যারা সমাজের বিত্তশালী, যারা সমাজে প্রভাবশালী, যারা বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন তারা কখনো মওলানাকে ভালো চোখে দেখেননি। সে কারণে সাম্রাজ্যবাদের যারা পূজারি তারা তাকে বলতেন ভায়োলেন্স। আর যারা আধিপত্যবাদের পক্ষে কথা বলেন, তারা তাকে বলেছেন তিনি একেবারেই একজন মৌলবাদী মানুষ।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ধার্মিক ছিলেন কিন্তু একেবারে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। মওলানা ভাসানী আমাদের সামনে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। যে নক্ষত্র ধ্রুবতারার মতো, যে নক্ষত্রকে সামনে নিয়ে আমরা এগুতে পারি। তিনি বাংলাদেশে যে প্রজন্ম সৃষ্টি করেছেন সেই প্রজন্ম হচ্ছে সামনে এগিয়ে চলার প্রজন্ম। যারা সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘মওলানা বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন. সংগ্রাম করেছেন, পাকিস্তানের উপনেবিশবাদ ও তার শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং বাংলাদেশকে যারা নিজস্ব সম্পত্তি বানাতে চেয়েছিল, বাংলাদেশকে যারা নিজস্ব প্রপার্টি বানাতে চেয়েছিল, বাংলাদেশের সব কিছুকে যারা নিজেদের বলে দাবি করেছিল তাদের বিরুদ্ধেও তিনি সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যে প্রত্যাহার করা হলো তার আগে কিন্তু মওলানা ভাসানী সারাদেশে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য তিনি সারাদেশে আন্দোলন করেছিলেন, ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেছিলেন।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএনপি নেতাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আনোয়ার হোসেইন, আবদুল কালাম আজাদ, মাওলানা শাহ নেছারুল হক, হাসান জাফির তুহিন ও মাওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক শানু প্রমুখ।
কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করিবার নিমিত্ত আনীত বিল।
যেহেতু কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখিয়া দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরিয়া ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।
সেহেতু এতদদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-
১। সংক্ষিপ্ত শিরােনাম, প্রবর্তন ও প্রয়ােগ। (১) এই আইন “আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নিসাব (পাঠ্যসূচি) অনুসরণে পরিচালিত কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর ক্ষেত্রে প্রয়ােজ্য হইবে।
২। সংজ্ঞা।— বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনাে কিছু না থাকিলে, এই আইনে
(১) “কওমি মাদরাসা” অর্থ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আত ও দারুল উলুম দেওবন্দের অাদর্শ, মূলনীতি ও মত-পথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র।
(২) “কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা” অর্থ:
(ক) ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ (একমাত্র আল্লাহর উপর নিরংকুশ ভরসা) এবং সর্বাবস্থায় সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার রিযামন্দী ও সন্তুষ্টি অর্জনকে জীবনের পরম ব্রত ও লক্ষ্য স্থির করিয়া একমাত্র আল্লাহ তাআলার সত্ত্বার সহিত ভয় ও আশার সম্পর্ক স্থাপন এবং তাহাতে অবিচল থাকা।
(খ) মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. এর বাণী “আমি ও আমার সাহাবীগণ যে মত, পথের উপর প্রতিষ্ঠিত)” এর আলোকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর মতাদর্শ অনুসরণে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের মাসুম (নিষ্পাপ) হওয়ার বিশ্বাস এবং সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের যথাযথ আজমত (মার্যাদা) ও তাঁহাদের ‘মিয়ারে হক’ (সত্যের মাপকাঠি) হওয়ার বিশ্বাস অন্তরে সুদৃঢ় করা ও তদনুসারে জীবন যাপন।
(গ) চার মাযহাবের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরমত সহিষ্ণুতার সহিত হানাফী মাযহাব অনুসরণ।
(ঘ) সুলুক ও আধ্যাত্মিকতায় সুপরিচিত চার তরীকা (চিশতিয়া, সােহরাওয়ারদিয়া, নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া ও কাদিরিয়া) সহ সকল হকপন্থী ধারার প্রতি সহনশীল ও উদার মনােভাব পােষণ।
(ঙ) উপমহাদেশে ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রদূত হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) এর চিন্তাধারার অনুসারী ও অনুগামী হযরত কাসেম নানুতবী (রহ.) ও হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ) প্রমুখ আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ এবং তা’লীম তরবিয়াতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ; এবং
(চ) আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃক প্রণীত নেসাবে তা’লীম (পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি), শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, ভৌত অবকাঠামাে নির্মাণ, মাদরাসা পরিচালনা ইত্যাদিতে প্রভাবমুক্ত থাকিয়া স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা;
(৩) “কো-চেয়ারম্যান” অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান।
(৪) “চেয়ারম্যান” অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান।
(৫) “দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)” অর্থ কওমি মাদরাসার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান।
(৬) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৭) “সদস্য” অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার কোনাে সদস্য।
৩। আইনের প্রাধান্য।- আপাতত বলবৎ অন্য কোনাে আইনের যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
৪। বাের্ড। ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন নিম্নবর্ণিত অনুর্ধ্ব ৬(ছয়) টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বাের্ড থাকিবে, যথা :
(ক) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ;
(খ) বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ;
(গ) আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ;
(ঘ) আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ;
(ঙ) তানযীমূল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ; এবং
(চ) জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবাের্ড বাংলাদেশ।
৫। আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়। আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং প্রয়ােজনে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।
৬। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কমিটি।— (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৩-০৪-২০১৭ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ৩৭.০০.০০০০.১১৮.২০.০০৫.১৭-১২১ নম্বর স্মারকমূলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের আলােকে ‘আলআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর নিম্নরূপ একটি কমিটি থাকিবে, যথা :
(ক) চেয়ারম্যান: বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর সভাপতি (পদাধিকার বলে);
(খ) কো-চেয়ারম্যান: সিনিয়র সহ-সভাপতি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (পদাধিকার বলে);
(গ) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) এর ৫ (পাঁচ) জন সদস্য (পদাধিকার বলে মহাসচিসহ অথবা বাের্ড কর্তৃক মনােনীত);
(ঘ) বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ এর ২ (দুই) জন সদস্য (পদাধিকারবলে সভাপতি ও মহাসচিব অথবা বাের্ড কর্তৃক মনােনীত);
(ঙ) আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর ২ (দুই) জন সদস্য (পদাধিকার বলে সভাপতি ও মহাসচিব অথবা বাের্ড কর্তৃক মনােনীত);
(চ) আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ এর ২ (দুই) জন সদস্য (পদাধিকার বলে সভাপতি ও মহাসচিব অথবা বোর্ড কর্তৃক মনােনীত);
(২) তানজিমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এর ২ (দুই) জন সদস্য (পদাধিকার বলে সভাপতি ও মহাসচিব অথবা বাের্ড কর্তৃক মনােনীত); এবং
(জ) জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ এর ২ (দুই) জন সদস্য (পদাধিকার বলে সভাপতি ও মহাসচিব অথবা বাের্ড কর্তৃক মনােনীত)।
(২) চেয়ারম্যান প্রয়োজনে, যে কোনাে সংখ্যক সদস্যকে কমিটিতে কো-অপট করিতে পারিবেন; তবে উক্ত সংখ্যা ১৫ (পনেরাে) জনের অধিক হইবে না ।
(৩) অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম পূর্ণ হইবে।
(৪) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র পণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরীসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটি এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে ।
(৫) কমিটি স্থায়ী কমিটি বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উহা দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থাকিবে।
৭। দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান। -শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৩-০৪-২০১৭ খ্রিস্টাব্দ তারিখের ৩৭.০০.০০০০.১১৮.২০.০০৫.১৭-১২১ নম্বর স্মারকমূলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রাখিয়া ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরিয়া গঠিত আল হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান এমনভাবে প্রদান করা হইল যেন উহা এই আইনের অধীন প্রদান করা হইয়াছে।
৮। শিক্ষা কার্যক্রম।—ধারা ৪ এ উল্লিখিত ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন বাের্ডসমূহ ধারা ৬ এ উল্লিখিত কমিটি দ্বারা নিবন্ধিত কওমি মাদরাসাসমূহে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নিসাব (পাঠ্যসচি) অনুসারে দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হইবে।
৯। আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর কমিটির কার্যাবলি। —(১) ধারা| ৬ এ উল্লিখিত কমিটি নিম্নরূপ দায়িত্ব পালন করিবে, যথা :
(ক) কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদের শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ;
(খ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদ বিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
(গ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর পরীক্ষা গ্রহণ ও তত্ত্বাবধান; এবং
(ঘ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল ও সনদ তৈরীসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা।
(২) কমিটি উহার কার্যক্রম সম্পর্কে, সময় সময়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করিবে।
১০। বিধি ও সংবিধি প্রণয়ন— এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণের স্বার্থে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে এই আইনে উল্লিখিত যে কোন বিষয়ে কমিটি কর্তৃক বিধি ও সংবিধি প্রণয়ন করা যাইবে।
উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতি
দেশে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রাখিয়া দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরিয়া ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
২। কওমি মাদরাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করিয়া এবং কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ও স্বকীয়তা বজায় রাখিয়া দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরিয়া ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি আইন প্রণয়ন করা অতীব প্রয়ােজন ও যুক্তিযুক্ত।
৩। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলােকে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান আইন, ২০১৮” বিল আকারে প্রস্তাবক্রমে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হইল।)
নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব নিরসন এবং তাবলিগের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাবলিগ জামাতে চলমান দ্বন্দ নিরসনের লক্ষ্যে নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে গেছে বাংলাদেশের তাবলিগ জামাত। এর জেরে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দেলোয়ারা বেগমের সই করা পরিপত্রটি এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানের তাবলিগের মারকাজগুলোতে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। একই পরিপত্র সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনে তাবলিগের উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অপপ্রচার রোধ এবং একে অপরের প্রতি সহনশীল মনোভাব পোষণের কথা বলা হয়েছে।
তাবলিগের সংকট নিরসনে সরকারের পাঁচ নির্দেশনা হলো—
১. বর্তমানে তাবলিগে বিদ্যমান দুটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা মারকাজে সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে তাদের কার্যক্রম (সাপ্তাহিক বাণী ও রাত্রিযাপন, পরামর্শ ও তালিম, মাসিক জোড় ইত্যাদি) পরিচালনা করবে। তবে কোনও পক্ষ চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মারকাজ ব্যাতিত অন্য কোনও মসজিদে বা জায়গাতেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
২. তাবলিগের আদর্শ ও চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী কোনও পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাবে না।
৩. দেশের সব মসজিদে আগের মতো শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে যেকোনও মসজিদে উভয় পক্ষের জামাতই যেতে পারবে। এতে কোনও পক্ষই কাউকে বাধা দেবে না। তবে একই সময়ে দুই পক্ষের দেশি ও বিদেশি জামাত একই মসজিদে অবস্থান করা যুক্তিসংগত হবে না। এক্ষেত্রে যে পক্ষের জামাত আগে আসবে সেই পক্ষের জামাত অবস্থান করবে। অন্য পক্ষের জামাত আশপাশের অন্য কোনও সুবিধাজনক মসজিদে যাবে।
৪. উভয় পক্ষ তাদের ইজতেমা বা জোড়ে তাবলিগের দেশি-বিদেশি মুরুব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এতে একপক্ষ অন্য পক্ষের কার্যক্রমে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
৫. কোনও এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে কোনও বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
পরিপত্রটিতে বলা হয়, সারাবিশ্বে তাবলিগের কার্যক্রম একটি আাজনৈতিক অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। মুসলিম জণসাধারণ তাদের আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের দাওয়াতে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম অগ্রসরমান দেশ হওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জামাত ‘বিশ্ব ইজতেমা’ প্রতিবছর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি এ সংগঠনের মধ্যে দৃশ্যমান বিভক্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে শান্তিকামী সংগঠনটির দুটি গ্রুপের মধ্যে দেশের প্রায় সব এলাকায় প্রায়ই বিন্যাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ধর্মীয় রীতিনীতি তথা সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার অন্তরায়। তাই দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রাখা তথা সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে পরিপত্রে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মারকাজ কাকরাইল মসজিদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তাবলিগের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধী অংশ। সাদের অনুসারীদের কাকরাইল মসজিদে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন তারা। এ নিয়ে তাবলিগ জামাতে চলছে উত্তেজনা। এ দ্বন্দ্ব নিরসনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ পটভূমিতে পরিপত্র জারি করলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সূত্রঃ বাংলাট্রিবিউন


